মানসিক অশান্তি দূর করুন এবং জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করুন

এই পোস্টটি হল The Power Of Now বইয়ের সারাংশ।বইটি পড়ার পর যে সকল আইডিয়া গুলো আমার ভালো লেগেছে সেগুলোই আমি এই পোস্টের শেয়ার করেছি।

বইয়ের ছবি

Fun Fact: উপরের ছবিতে একটা মজার বিষয় আছে একটু ভালো করে লক্ষ করুন আপনি খুঁজে পান কিনা।

বইয়ের উৎপত্তি

লেখক তার জীবনের একটি সময় খুব হতাশার মধ্যে ছিল। এতটাই হতাশাগরস্ত যে তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। সৌভাগ্যবশত তিনি আত্মহত্যা করেন নি, তার আগেই তার জীবনে এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে যায়। একদিন মধ্যরাতে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং নিজেই নিজেকে বার বার বলতে থাকে “I can not live with myself any longer.”। এই পুনরাবৃত্তির সময় হঠাৎ তার মাথায় একটি প্রশ্ন আসলো “আমি কি একজন না দুইজন?” এখানে অবশ্যই দুইজন আছে “I” এবং “Self”। এদের মধ্যে একজনই আসল। যখনই এই চিন্তাটি তার মাথায় এলো তিনি পুরোপুরি অবাক হয়ে গেল। একটি অদ্ভুত জিনিস বুঝতে পারল তার মন একদম ফাকা কোন প্রকার চিন্তা ঘুরছে না। তিনি পুরোপুরি সচেতন। তার ভেতরে একদম অন্য রকম এক ধরনের শক্তি অনুভব করতে শুরু করল যা আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল। তারপর তার যত দুশ্চিন্তা, ভয়, হতাশা ছিল সব দূর হয়ে গেল এবং তার মন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে গেল। তার কাছে বাতির আলো আগের থেকে অনেক উজ্জ্বল মনে হতে লাগলো, তার ঘরের টেবিল, পেন্সিল, বই, পানির বোতল এবং সবকিছুই তার কাছে সুন্দর আর জীবিত লাগল। তিনি সম্পূর্ণ সচেতন হয়ে গেলেন। তার এই অভিজ্ঞতার পর, তিনি চাকরি, বাড়ি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং এমনকি সামাজিক কোন পরিচয় ছাড়াই শুধু পার্কের বসার জায়গায় দুই বছর পার করেন তীব্র আনন্দের সাথে।

তারপরই তিনি জানতে পারেন অনেক মানুষ তার এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়। তখন তিনি স্পিরিচুয়াল শিক্ষক হয় আর অন্যদের শেখাতে থাকেন। তার এই অভিজ্ঞতার আলোকেই এই বই লেখা।

কি পাবেন বই পড়ে?

এক ভিক্ষুক রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করত। সেই রাস্তা দিয়ে এক অগান্তুক হেটে যাচ্ছিল। সেই অগান্তুককে দেখে ভিক্ষুক বলল আমাকে কিছু দিয়ে যান। তখন আগন্তুক বলল “আমার কাছে কিছুই নেই তোমাকে দেওয়ার মত।” তারপর আগন্তুক ভিক্ষুককে জিজ্ঞেসা করল “তুমি কিসের উপর বসে আছো?” ভিক্ষুক উত্তর দিল “পুরাতন বাক্সের উপর।” তারপর আগন্তুক আবার জিজ্ঞেসা করল “তুমি কি এর ভেতরে কি আছে দেখেছো?” ভিক্ষুক উত্তর দিল “না। এর ভেতরে কিছু নেই।” আগন্তুক জোরালো কন্ঠে বলল “খুলে দেখো।” তারপর ভিক্ষুক বাক্সটি খুলল এবং নিজের চোখ দুটিকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। বাক্সটি সম্পূর্ণ স্বর্ণ দিয়ে ভর্তি।

এই গল্পে লেখক হলেন আগন্তুক, যিনি আমাদের কিছু দিবেন না কিন্তু বলবে ভিতরটা খুলে দেখতে। কোন বাক্সের ভিতরে নয় তার থেকে অনেক বড় কিছু, আমাদের ভিতরে। আমাদের ভিতরের স্বর্ণ বের করতে। এনলাইটেনমেন্ট অর্জন করতে।

এখন আপনি বলতে পারেন “আমি তো ভিক্ষুক নই।”

লেখকের মতে, যারা এখন তাদের ভিতরের আসল সম্পদ অর্থাৎ অপার আনন্দ ও শান্তি খুজে পায় নি যা একজনের ভিতরেই থাকে, আর যারা নিজের ভেতরে আনন্দ বা শান্তি না খুজে বাইরে খুজে বেড়ায়, তারা সকলেই ভিক্ষুক। তাদের যতই বস্তুগত সম্পদ থাক না কেন।

এনলাইটেনমেন্ট (Enlightenment) কি?

বুদ্ধকে জিজ্ঞেসা করা হয়েছিল এনলাইটেনমেন্ট কি? তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন এনলাইটেনমেন্ট হলো “End of suffering”। মানে আমাদের কোন কিছু নিয়ে আমাদের কোন প্রকার দুঃখ-কষ্ট বা মনের ভিতর কোন সংঘর্ষ থাকবে না। তারপর বুদ্ধকে আবার জিজ্ঞেসা করা হয় “যদি আর কোন দুঃখ বা কষ্ট না থাকে তখন কি হবে?” বুদ্ধ কোন উত্তর না দিয়ে চুপ ছিলেন। তার মানে হল সেটি আমাদেরকেই খুজে বের করতে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

কেন আমরা এনলাইটেনমেন্ট (Enlightenment) অর্জন করতে পারি না?

আমি যদি কোন ডাক্তারকে বলি “ডাক্তার সাহেব, আমার মাথার ভিতর একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পাই।” সেই ডাক্তার আপনার মাথার সমস্যা হয়েছে এটা ধরে নিয়ে আপনাকে সাইকোলজিস্ট/সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে পাঠাবেন। এর কারণ হল, আমাদের সকলেই এই কন্ঠস্বরকে শুনতে পাই সবসময় আর এক বা একাধিক কন্ঠস্বর আমাদের মাথায় বাজতে থাকে। অনবরত চলতে থাকে এই কন্ঠস্বর। এই অনবরত কন্ঠস্বর শোরগোল সৃষ্টি করে। আমরা কখনও বুঝতেই পারি না যে এই অনবরত চলতে থাকা শোরগোলকে বন্ধ করতে পারি। এনলাইটেনমেন্ট আমদের কাছে আছে কিন্তু এই শোরগোল আমাদের অনুভব করতে দেয় না।

যেভাবে আমরা এনলাইটেনমেন্ট (Enlightenment) অর্জন করতে পারি

আমরা যদি আমাদের মনের ভিতরে যে শোরগোল চলে সেইটাকে বন্ধ করতে পারি তবেই আমরা এনলাইটেনমেন্ট অর্জন করতে পারব। আমরা কিভাবে এই শোরগোল বন্ধ করতে পারি? চিন্তা নেই! বইয়ের থেকে পাওয়া আইডিয়া গুলো প্রয়োগ করে আমরা তা অর্জন করতে পারি। চলুন আইডিয়া গুলো জানা যাক।

আইডিয়া — ১ঃ যেই কাজই করেন না কেন পুরো মনোযোগের সাথে করুন।

আমরা শারিরীক ভাবে থাকি একজায়গায় আর আমাদের মনপড়ে থাকে আরেক জায়গায়। কথা বলি বন্ধুর সাথে মন থাকে ফেসবুক পোস্টের ছবিতে কয়টা লাইক পড়েছে। এটাকে বন্ধ করে আমরা এনলাইটেনমেন্ট অর্জন করতে পারি। ধরুন,

আপনি রাস্তা দিয়ে হাটছেন। হাটার সময় অন্য কোন চিন্তা করবেন না। আপনি পুরো মনোযোগ শুধু হাটবেন। হাটার সময় আপনার পা কিভাবে ফেলছেন, পা মাটিতে পরার পর কি রকম অনুভব করছেন। বাতাস আপনার শরীরে লাগছে তা অনুভব করুন। আপনার চুলে বাতাস লেগে চুল উড়ছে, রাস্তার পাশের গাছের পাতা উড়ছে, গাছের পাতা গুলো এত সবুজ আর সুন্দর লাগছে কিন্তু আপনি কখনও খেয়াল করেন নি। আপনি গোসল করছেন, মাথায় পানি ঢালছেন পানি মাথা থেকে আস্তে আস্তে গড়িয়ে শরীর বেয়ে নিচের দিকে নামছে, পানি আপনার শরীরে লাগতেই আপনার কেমন লাগছে তা অনুভব করুন। আপনি খাচ্ছেন, খাবার মুখে দিতেই খাবারে স্বাদ, খাবার চিবানোর সময় কেমন লাগছে তা অনুভব করুন।

দেখবেন সবকিছুই আপনার এত ভালো লাগবে, এমন একটা অনুভূতি পাবেন যা আমি লিখে বা বলে আপনাকে বুঝাতে পারব না। এটাকে আমরা শুধুমাত্র অনুভব করতে পারব।

আইডিয়া — ২ঃ সাইক্লোলজিক্যাল টাইম বনাম ক্লক টাইম।

আমাদের মনের দ্বারা তৈরিকৃত অতীত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অবান্তর চিন্তা করাকেই বলা হয় সাইকোলজিকাল টাইম।মানে হচ্ছে, আমাদের মনের ভেতর এমন এক ধরনের চিন্তা করা যেগুলো বাস্তবে আমাদের কোন উপকারে আসে না, শুধু আমাদের মনে দুঃখ-বেদনা, দুশ্চিন্তা, হতাশার সৃষ্টি হয়। যেমন ধরেন, ভবিষ্যতের চিন্তা যখন আসলো তখন আমি ভাবতেছি, যদি আমি ফেল করি তাহলে আমার কি হবে। যদি আমার চাকরি চলে যায় তাহলে আমার কি হবে। আর যদি আমি অতীতের কথা ভাবি তখন, যদি এই স্কুলে ভর্তি না হয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হতাম, আমি যদি এই সাবজেক্টে না পড়ে যদি অন্য একটা সাবজেক্টে করতাম। তাহলে কত ভালো হতো? এরকম ধরনের চিন্তা যখন আমরা এই চিন্তাগুলো করি তখন আমাদের দুঃখ-বেদনা, দুশ্চিন্তা, হতাশার সৃষ্টি হয়। এটাই হলো সাইকোলজিকাল টাইম।
ক্লক টাইম শুধুমাত্র এই যে আমাদের ঘড়ির 24 ঘন্টার সময় এটা নয়, আমরা কালকে কি করবো, আমরা কোথায় ঘুরতে যাব এটা তৈরী করাই ক্লাব টাইম নয়। ক্লক টাইম হচ্ছে, আমরা অতীত থেকে ঝুলতে করেছি সেটা থেকে কি শিখলাম ,আমাদের একটা ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা চিন্তা আছে একটা উদ্দেশ্য আছে, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে যখন আমরা কাজ করতেছি সেটাই হলো ক্লক টাইম।
অতীত থেকে আমরা শিখব আর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা আমাদেরকে সেই ভাবে মানিয়ে নেব। কিন্তু আমরা অতীতেও ভবিষ্যতকে নিয়ে ভেবে ভেবে দুঃখ বেদনা হতাশা দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করবো না।

আমরা বেশিরভাগ সময়ই সাইকোলজিকাল টাইম এর ভিতরে থাকি আমরা ক্লক টাইম কে বাদ দিয়ে চলি। এজন্যই আমাদের ভিতর এত দুঃখ দুর্দশা হতাশা বেদনা সৃষ্টি হয়। আমরা সাইকোলজিকাল টাইম কে বাদ দিয়ে ক্লক টাইমে বসবাস করা শুরু করব। মনের ভিতর কোন অবান্তর চিন্তা নয়।

কোন কিছুই কখনো অতীতে ঘটে নি যা ঘটেছে সব বর্তমানে ঘটেছে আর ভবিষ্যতেও কখনো কোন কিছু ঘটবে না সবকিছুই বর্তমানে ঘটবে। অতীত হলো বর্তমানে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার স্মৃতি যা আমাদের মনের মাঝে রয়ে গেছে এবং ভবিষ্যৎ হলো আমাদের কল্পিত একটা বর্তমান যা ভবিষ্যতে ঘটবে এমন এক বর্তমান।অতীত এবং ভবিষ্যৎ এর নিজস্ব কোন সত্যতা নেই। যেমন চাঁদের কোন নিজস্ব আলো নেই কিন্তু সে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করতে পারে। ঠিক সেরকম অতীত ও ভবিষ্যতের কোনো শক্তি নেই যেটা শুধু বর্তমান মুহূর্তের শক্তিকেই প্রতিফলিত করে। অতীত এবং ভবিষ্যৎ, বর্তমান থেকে শক্তি ধার করে নেয়।

আইডিয়া — ৩ঃ নীরব দর্শক হোন।

আপনাকে শুধু আপনার চিন্তাগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, আপনার মনের ভিতরে যেই চিন্তাগুলো আসতেছে। সেগুলো কে পর্যবেক্ষণ করতে হবে সেগুলো কে কোন প্রকার বিচার করা যাবে না। এটা ভালো এটা মন্দ এরকম ধরনের কোনো কিছুই করবেন না শুধু আপনি আপনার চিন্তাগুলোকে দেখতে থাকুন যে কি হচ্ছে আপনার মনের ভিতরে কি হচ্ছে কোন চিন্তার পর কোন চিন্তা আসতেছে। মনে করবেন যে আপনি একজন তৃতীয় ব্যক্তি অন্য একজন কথা বলতেছে আপনি শুনতেছেন। যখনই আপনি এই কাজটা করবেন তখনই দেখবেন যে একটা ম্যাজিক ঘটছে। দেখবেন যে আপনার মনের ভিতরে কোন প্রকার চিন্তাই আসতেছে না। এখন আপনার মাইন্ড একদম পুরো নিরব হয়ে গেছে। আপনার কোন প্রকার দুঃখ-কষ্ট, হতাশা,দুশ্চিন্তা কিছুই নেই। আপনি একটা অন্য ধরনের একটা অনুভূতি পাবেন।
আর যখনই আপনি আপনার চিন্তা সম্পর্কে সচেতন হবেন, তখন সেই সময় কোন খারাপ জিনিস আসার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে। কারণ যখন কোন একটা বাড়িতে তার মালিক থাকে তখন সেই বাড়িটা পরিষ্কার থাকে। যদি সে বাড়িতে মালিক না থাকে সেই বাড়িটা ধুলোবালিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় একদম আবর্জনা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আপনি যখন আপনার চিন্তা দেখবেন তখন আপনি আপনার মনের ভিতরে মালিক হিসেবে নিযুক্ত হবেন, সেই সময় আপনি কখনোই আপনার মনের ভিতরে ধুলোবালি জমতে দেবেন না।

আপনি এই কাজটি প্রতিদিন করতে পারেন। যখনই আপনি এই কাজটা করবেন, তখন আপনার মন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যাবে। আর এটাই হল আসল মেডিটেশন।

আইডিয়া — ৪ঃ আত্মসমর্পণ।

আত্মসমর্পণ এই কথা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই আমি আপনাকে পুলিশের কাছে বা থানায় গিয়ে ধরা যাওয়ার কথা বলতেসি না আমি বলছি নিজেই নিজের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথা।
এই আত্মসমর্পণ মানে হচ্ছে, আমাদের বর্তমান অবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে মেনে নেওয়া। আমরা বর্তমান অবস্থা যতই খারাপ থাক না কেন। আমাদের মনের ভিতরে কোন প্রকার কোন দ্বন্দ্ব ছাড়াই আমাদের বর্তমান অবস্থা মেনে নেওয়া।

এখন আপনি বলতে পারেন, “আমার চাকরি নেই আমার কাছে কোন টাকা নেই আমি খেতে পারতেছিনা আমি বাসা ভাড়া দিতে পারতেছিনা আমি এই অবস্থাটা মেনে নেব” অথবা “আমার অসুখ হয়েছে আমি ঠিকমত খেতে পারতেছি না ঘুমাতে পারতেছি না আমার এই চিকিৎসার জন্যে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হচ্ছে আমার কাছে টাকা নেই আর আপনি বলছেন যে আমি এটাকে মেনে নেব” ।

এই আত্মসমর্পণ হলো সম্পূর্ণ নিজের কাছে। তার মানে এই নয় যে, আপনি আপনার এই খারাপ অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য কোন কিছু করতে পারবেন না। আপনাকে চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে। আপনি অবশ্যই কিছু একটা করতে পারেন। তবে আপনার যে খারাপ অবস্থা হয়েছে সেটা কে প্রথমে মেনে নিতে হবে। যদি আপনি মেনে না নেন আপনার মনের ভিতরে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে। সেই দ্বন্দ্ব থেকে আপনার হতাশা দুশ্চিন্তা দুঃখ বেদনা এগুলো সৃষ্টি হবে, যেটা আপনার এই খারাপ অবস্থা কে আরো গুরুতর করে তুলবে।
আপনার চাকরি নেই বা অসুখ হয়েছে এ অবস্থায় তাকে প্রথমে মেনে নিতে হবে। যখনই মেনে নিবেন আপনার মনের ভিতরে কোন দ্বন্দ্ব থাকবে না, একদম আপনার মন শান্ত হয়ে যাবে। তারপরে আপনাকে যেটা করতে হবে, সেটা হলো যে আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে হবে “এই অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য আমি কি করতে পারি?” যদি করতে পারি তাহলে আমি সে অনুযায়ী কাজ করব। আর যদি না পারি আমি তো মেনেই নিয়েছি আর কোন সমস্যা নেই।
আপনার চাকরি নেই এজন্য আপনি যেটা করতে পারেন আপনার কোন কোন স্কিল দরকার সেগুলো শিখতে পারেন, চাকরি খুঁজতে পারেন, তাহলেই আপনি চাকরি পেয়ে যাবেন।। আর আপনার অসুখ হয়েছে সেজন্য আপনি ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন তার পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন তাহলেই সুস্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু এমনও কিছু সময় আসবে যেখানে আপনি চাইলেও কিছু করতে পারবেন না ।যেমন ধরেন যে আপনার কাছের কেউ একজন মারা গিয়েছেন, সেই ক্ষেত্রে এই অবস্থার জন্য তো আপনি কিছু করতে পারবেন না। আপনাকে সেটা মেনে নিতে হবে, আপনি যদি সেটা মেনে না নিতে পারেন তাহলে আপনার ভিতরে দুঃখ বেদনা বাড়তেই থাকবে। আপনার মন খারাপ হবে কিন্তু সেই সত্যটাকে আপনাকে মেনে নিতে হবে।

যখনই আপনার ভেতর কোন দুঃখ বেদনা হতাশা দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয় তখনই বুঝতে হবে আপনি কোন কিছু পুরোপুরি ভাবে মেনে নিতে পারছেন না। আপনি আত্মসমর্পণ করতে পারছেন না, এইজন্যই আপনার এই নেতিবাচক দিকগুলো সৃষ্টি হচ্ছে।

যখনই আপনি কোন একটা খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন আপনি সবথেকে মূল্যবান যে কাজটা করতে পারেন সেটা হল আত্মসমর্পণ। যখনই আপনি আত্মসমর্পণ করা শিখে যাবেন আপনার জীবনকে পুরোপুরি বদলে যাবে।

শেষ কথা

উপরে যে আইডিয়া গুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হয়তোবা আপনার কাছে প্রথম প্রথম যখন আপনি প্র্যাকটিস করবেন তখন এটা অদ্ভুত মনে হতে বা লাগতে পারে। তবুও আমি বলব যে আপনি ধৈর্য ধরে এই আইডিয়া গুলো প্র্যাকটিস করুন দেখবেন আপনি হয়তো এমন একটা অভিজ্ঞতা পাবেন যেটা আপনি কখনো পাননি।

Be an Alchemist. Transmute base metal into gold, suffering into consciousness, disaster into enlightenment.

সবশেষে এই উপরের উক্তির মতো আমি বলব, একজন আলকেমিস্ট হোন দুঃখ-বেদনা কষ্টকে আলকেমিস্ট এর মতো আনন্দ তে পরিণত করুন।

Developer, Book lover.